নিরানব্বই খুনির গল্প

হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ, বলেন, হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ইসরাঈলের এক খুনির ঘটনা বলেছেন। ঘটনাটি হলো, এক ব্যক্তি ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছিল। পরে তার মনে তওবা করার অনুভূতি জাগে। তখন সে ভাবতে লাগলো- কী করা যায়? সে একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজকের কাছে গেল। তার কাছে গিয়ে বলল,‘আমি ৯৯ জনকে হত্যা করেছি, এমন অন্যায়ের পরও আমার জন্যে মুক্তির কোনো পথ আছে কি?’
কথাশুনে ধর্মযাজক বললেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমার ধ্বংস অনিবার্য’।
পাপিষ্ঠ ব্যক্তিটি নিরাশ হয়ে এ খ্রিস্টান ধর্মযাজককেও হত্যা করে শতক পূর্ণ করলো। কিন্তু অন্তরে যেহেতু খোদার ভীতি একবার জন্মেছে সে কারণে সে আবারও কোনো খোদাভক্ত লোকের তালাশ করতে লাগলো। অনেক তালাশের পর এক আল্লাহওয়ালার সন্ধান পেয়ে সে তাঁর কাছে গিয়ে অতীতের ঘটনার বিস্তারিত শোনালো। ঘটনা শুনে আল্লাহওয়ালা বললেন তোমার নিরাশ হবার কিছু নেই। তুমি প্রথমে তওবা কর। তারপর এ পাপাচারের ভূমি ছেড়ে সৎ লোকদের জনপদের দিকে চলে যাও এবং ভালো মানুষের সংস্পর্শ গ্রহণ করো।
যেহেতু লোকটি সত্যিকারার্থে অনুতপ্ত ছিল, তাই সে ওই আল্লাহওয়ালার পরামর্শ অনুযায়ী নিজ এলাকা ছেড়ে নেককার জনপদের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো। খোদার কী মহিমা! পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়ে গেলো। বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, মালাকুল মউত আসার পরও সে প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগল সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্যে। এরই মাঝে তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেলো।
এখন তার রূহকে আকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্যে দু’দল ফেরেশতা আসলেন। একদল রহমতের ফেরেশতা আর অন্য দল আযাবের। উভয় দল মুখোমুখি হয়ে তর্কে লিপ্ত হলো। রহমতের ফেরেশতারা বলতে লাগলো, যেহেতু সে তওবা করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো সুতরাং তার রূহ আকাশে আমরা নিয়ে যাবো। পক্ষান্তরে আযাবের ফেরেশতারা বলতে লাগলো, সে পাপাচারী। একশ’ লোকের
হত্যাকারী। এখনো তার গুনাহ মাফ হয়নি। সুতরাং তার রূহ আকাশে আমরা নিয়ে যাবো।
পরিশেষে আল্লাহ ফয়সালা করে দিলেন যে, মেপে দেখো তার থেকে কোন এলাকা বেশি কাছে? নেককারদের না পাপিষ্ঠদের? অবশেষে জানা গেলো- নেককার লোকদের এলাকা তার থেকে একটু কাছে। সুতরাং রহমতের ফেরেশতারা তার রূহ আকাশে নিয়ে গেলেন। ওই লোকের চেষ্টার কারণে আল্লাহ তা’লা তাঁকে মাফ করে দিলেন।
হযরত থানভী রহ, বলেন, যদিও তার ওপর হুকুকুল ইবাদ ছিলো তবুও নিজের পক্ষ থেকে যেহেতু চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিলো; এজন্যে আল্লাহ তা’লা তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন। এমনিভাবে যখন কারো ওপর বান্দার হক থাকে আর সে তা আদায় করার প্রাণপণ চেষ্টা করে আর এরই মাঝে তার মৃত্যু এসে যায়।
তাহলে আশা করা যায় যে, আল্লাহ নিজ রহমতে কেয়ামতের দিন পাওনাদারকে
তার প্রতি রাযী করে দেবেন।
‘(সহীহ মুসলিম, কিতাবুত তওবা, বাবু ক্ববূলু তওবাতিল কাতিল। হাদীস : ২৭৬৬]
(মারকাজুল হুদা ডটকম)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *