মালফূযাত-২২

মারকাজুল হুদা :-  তরজুমানে আকাবির আরেফবিল্লাহ শায়খুল হাদীস শায়খুল উলামা *হযরত মাওলানা শাহ আবদুল মতীন বিন হুসাইন সাহেব দামাত বারাকাতুহুম* এর
*মালফূযাত* 
নযর হেফাজত এক গুরুত্বপূর্ণ আমল। এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। হাজার হাজার মানুষ এমন আছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রতি খুব যত্নবান, রমযানে রোযা রাখে, হজের সময় হজ করে, যাকাত দেয়, ওমরায় যেতেই থাকে, কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেই থাকে, তাহাজ্জুদ পড়তে থাকে, ওয়ায নসিহত করতেই থাকে, কিন্তু নযর হেফাযত নাই! এ কি মুশকিল মোআমালা! ভাই এত আমল কর তো কার জন্য? আল্লাহকে খুশি করার জন্য? ফের কুদৃষ্টি করা কার জন্য? আল্লাহকে রাজি করার জন্য? এই বিষয়টা কষ্টকর, নজর হেফাজত করা কষ্টকর। যখনই আশপাশে কোনো নারী যায় তখন তবিয়ত অস্থির হয়, মন অস্থির হয়, তাকে দেখার জন্য। এ সময় নিজেকে কন্ট্রোল করা, না দেখা, কাছে না যাওয়া আল্লাহপাকের মস্ত বড় সন্তুষ্টির কারণ হয়। সে ক্ষেত্রে হিম্মত করা চাই। মন চাইবে, কিন্তু আমি দেখব না। এতে আল্লাহ পাক খুশি হবেন। একবার নযর হেফাযত করলে লক্ষ লক্ষ নফল আমলের চেয়ে বেশি মর্তবা নসীব হয়। যে কোন গুনাহের কাজ থেকে একবার বিরত থাকলে লক্ষ লক্ষ নফল আমলের চেয়ে সেটা বেশি মর্তবাওয়ালা। যে সমস্ত গুনাহের মধ্যে মানুষ বেশি বেশি আক্রান্ত তার মধ্যে এক বিষয় হচ্ছে কুদৃষ্টি করা, গীবত করা। সবচেয়ে বেশি কুদৃষ্টি হতে থাকে!
আবার স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। তাতে অনেক বাজে জিনিসও দেখার সুযোগ আছে। তো সেটা না দেখা চাই। ভালো ভালো আমলওয়ালা মানুষ এ গুনাহে আক্রান্ত। মোবাইল খুলে বাজে জিনিস দেখতে থাকে।
হযরত মাওলানা মুফতী তাকী উসমানী সাহেব লিখছেন যে, যারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে, এই ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে যদি গুনাহ থেকে বাঁচতে না পারে তার জন্য এই ফোন ব্যবহার করা জায়েয নেই। নরমাল ফোন ব্যবহার করো। এই ফোন ব্যবহার করতে হলে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, এর খারাপ এস্তেমাল আমি করবো না। অসৎ ব্যবহার করব না। গুনাহের কাজে এটা ব্যবহার করব না।
আরেক মাসআলা হলো, দুজন মানুষ ফোনে কথা বলে। অন্যদিক থেকে একজন রেকর্ড করতে থাকে। হাদীস শরীফে আছে যেখানে যা কাজ হয় বা কথা হয় সেগুলো আমানত রূপে গণ্য হয়। সেখানে এমন বিষয় যেটা আরেকজনের কাছে প্রকাশ হলে ঐ মজলিসের মানুষ, ঐ সাথীদের কারো মনে আঘাত হতে পারে, হক নষ্ট হতে পারে, ক্ষতি হতে পারে, সেটাকে প্রকাশ করা জায়েজ নেই। এই হাদীসের ভিত্তিতে যেখানে একজন আরেকজনের সাথে কথা হচ্ছে  তাকে না জানিয়ে রেকর্ড করা জায়েজ নেই। অনেকে খুব মজা করে রেকর্ড করতে থাকে। পরে তাকে বিপদে ফেলতে থাকে। সেসব জিনিস প্রচার করতে থাকে। গীবত করা নাজায়েজ। গীবত করা হারাম। তো ওই মুসলমানের দোষগুলো প্রচার করা কি? সেটা সুন্নত হবে, না হারাম হবে? হারাম। এজন্য তার অনুমতি ছাড়া রেকর্ডিং করা জায়েজ নেই।
গোয়েন্দা বিভাগের কথা তো আলাদা। রাষ্ট্রীয় সংস্থার ব্যাপার ভিন্ন। সেগুলো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে করা হয়। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে মানুষের মধ্যে এই রেওয়াজ সহীহ না। তার বিনা অনুমতিতে রেকর্ডিং করা ঠিক না। এটা গুনাহের কাজ। যারা এমন করে ফেলেছেন তারা জলদি আল্লাহর কাছে তওবা করি, মাফ চাই। ইন্নালিল্লাহি! বড় মুশকিল মুআমালা! আল্লাহপাকের নিকট তওবা করা, মাফ চাওয়া জরুরি। (মারকাজুল হুদা ডটকম)