Web Analytics Made Easy - StatCounter

উম্মাহর আকাশে বিপর্যয়ের কালো মেঘ :

ইতিহাস সাক্ষী, যখন উম্মত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলে বসেছে, উদাসীন থেকেছে তাদের ওয়াজিব দায়িত্বের ব্যাপারে, তখন তাদের শিকার হতে হয়েছে চরম নির্যাতনের। ধর্ষণ, হত্যা, গুম, দেশান্তরসহ জুলুমের এমন কোনো পন্থা বাকি ছিল না, যা তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যায়নি। আর এ ঝড় যখন এসেছে, তখন শুধু উলামায়ে কিরামই এর কবলে পড়েননি; বরং তাদের সাথে ইসলামের নাম উচ্চারণকারী সবাই ধ্বংস-তাণ্ডবের মুখে পড়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, যারা সমাজে মুনাফিক ছিল, যাদের নিফাকি এ রক্তক্ষয়ী ফিতনার আগমনকে আরও তরান্বিত করেছে, আখেরে তারাও কিন্তু ছাড় পায়নি। সবাই সমূলে উৎখাত করা হয়েছে। যুগে যুগে এমনই হয়ে আসছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, এসব গাদ্দার ও বোকারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।স্পেনে এসেছিল ফার্ডিনান্ড-ইসাবেলা জুটির ঝড়, বাগদাদে এসেছিল তাতারি তুফান, বোখারা-সমরকন্দে এসেছিল বলসেভিক টর্নেডো, হিন্দুস্তানে এসেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আঘাত, তুর্কিতে এসেছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, অধুনা আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, আরাকান, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে চলছে চতুর্মুখী আক্রমণ ও ভয়াবহ নির্যাতন। মুসলিমদের ধ্বংস করতে হেন কোনো পদক্ষেপ নেই, যা তারা গ্রহণ করছে না। একদিকে যেমন তাদের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে, অন্যদিকে দাজ্জালি মিডিয়া দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম উম্মাহকে সন্ত্রাসী প্রমাণ করারও চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হকপন্থী আলিমদের হয় অর্থ দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে, নয়তো ভয় দেখিয়ে দমিয়ে দিতে চাচ্ছে কিংবা গুম করে বা হত্যা করে তাদের মুখ চিরতরে বন্ধ দিচ্ছে।

বাংলাদেশের উলামায়ে কিরাম এতদিন বেশ শান্তিতেই দিন গুজরান করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিতনার কালো মেঘ আজ বাংলার আকাশেও ছেয়ে গেছে। আলিম-উলামা বাহ্যত যে ভূমিকে নিরাপদ ভাবতেন, সে ভূমিও আজ আক্ষরিক অর্থেই অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। শুধু এতটুকুই হলে না হয় একটা কথা ছিল, কিন্তু উদ্বেগের ব্যাপার হলো, বর্তমানের পরিস্থিতির সাথে স্পেন, বাগদাদ ও বোখারা-সমরকন্দের অবস্থার অনেক মিল দেখতে পাচ্ছি। ঝগড়া-বিবাদ ও অগুরুত্বপূর্ণ তর্ক বেড়ে চলছে। সাধারণত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সম্ভবত সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে; যদিও পথ ও পদ্ধতি একটু ভিন্ন। বাংলার মুসলমানরা, বিশেষত আলেম-উলামা ভয়ংকর এক ফিতনার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এ ফিতনার দ্বার একবার খুলে গেলে আর থামবে না। সবকিছু হরণ করে তবেই সে থামবে।

ভয় আরও বেশি লাগছে এজন্য যে, সাধারণত ঝড়ের পূর্বে প্রকৃতি শান্ত থাকে। মাঝেমধ্যে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া এসে আগাম ধ্বংসলীলার ব্যাপারে সংকেত দিতে থাকে। এরপর যখন পূর্ণরূপে ঝড় জনপদে আছড়ে পড়ে, তখন কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। ছোট-বড়, যুবা-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ; সবার ওপরই তাণ্ডবলীলা চালায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন একটা গুমোটভাব লক্ষ করছি। শান্ত প্রকৃতির মাঝ দিয়ে একটু পরপরই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এটা আশু সে প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের পূর্বাভাস নয় তো?! জানি না, সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে! আমাদের উদাসীনতার খেসারত কীভাবে দিতে হবে, সেটা কল্পনা করলেও শরীর কেমন হিম হয়ে যায়!! বস্তুত এ প্রলয়ংকারী ঝড় আসছে। আমাদের দায়িত্ব বলে দেওয়া। সতর্কতা গ্রহণ করার দায়িত্ব প্রত্যেকের নিজের।

হে আল্লাহ, আজ আমরা তাওবা করছি। আপনার গজব আপতিত হওয়ার আগেই আপনার দিকে প্রত্যবর্তন করছি। আপনার দেওয়া যে বিধান অমান্য করার কারণে উম্মাহর এ করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে বিধান পালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছি। আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন। যারা পূর্বের ভুল বুঝে আপনার পথে ফিরতে চায়, তাদেরও একটু অবকাশ দিন। যারা বুঝছে না, তাদের বুঝ দান করুন। তাদের নসিবে হিদায়াত না থাকলে তাদের থেকে উম্মাহকে হিফাজত করুন এবং তাদের জন্য সঠিক পথপ্রাপ্ত রাহবারের ব্যবস্থা করে দিন। হে আল্লাহ, হে রাহমান, হে রাহিম, মুসলিম জাতিকে আশু ফিতনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন। তাদেরকে সত্য পথের দিশা দিন। হক-বাতিলের এ চিরন্তন দ্বন্দ্বে তাদেরকে সদা হকের পথে থাকার তাওফিক দান করুন।

(অনেকে কেবল সহজ উপায় খোঁজেন। তাদের ধারণা, কেউ একটা কথা বলে দিলেই সেটা হক হয়ে যায়। জি না, হক পাওয়াটা এত সহজ নয়; বিশেষত ফিতনার এ যুগে। আপনি যদি সত্যটা পাওয়ার জন্য জানপ্রাণ চেষ্টা না করেন, এর জন্য কুরআন-সুন্নাহসহ বিভিন্ন দ্বীনি কিতাব অধ্যায়ন না করেন, হক্কানি আলিমদের সোহবত ও তাদের তালিম গ্রহণ না করেন, এর জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হলেও কষ্টের ভয়ে সফর না করেন, তাহলে আপনি ঘরে বসে থেকে কীভাবে এত সহজে হক পথ পেয়ে যাওয়ার আশা করেন? এত এত দল-মতের মাঝে সত্যটা খুঁজে পাওয়া কঠিন ঠিক আছে, কিন্তু আপনি যদি এর জন্য পুরোপুরি চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন, পাশাপাশি শেষ রাতে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করতে থাকেন, তাহলে আমরা আশা করি, অবশ্যই আপনি সত্যের দেখা পেয়ে যাবেন। আল্লাহ আপনাকে নিরাশ করবেন না, ইনশাআল্লাহ। এসব না করে কেবল হা-হুতাশ করার দ্বারা পেরেশানি বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো লাভ হবে না। চেষ্টা করতে থাকুন, দুআ করতে থাকুন; ইনশাআল্লাহ সব পেয়ে যাবেন। আল্লাহ আমাদের সে তাওফিক দান করুন।)

🖊 মুফতি তারেকুজ্জামান দা.বা.

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + twelve =

error: Content is protected !!