Web Analytics Made Easy - StatCounter

নিশ্চিত মৃত্যু ও আমাদের উদাসীনতা :

নিশ্চিত মৃত্যু ও আমাদের উদাসীনতা :
মুফতি তারেকুজ্জামান (দাঃবাঃ)

কত মানুষ কবরে শুয়ে আছে, যারা প্রতিদিন ভাবত, আগামীকাল থেকে তাওবা করে ভালো হয়ে যাব। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ এমন একদিন চলে এসেছে, যেদিন আর তার আগামীকাল আসেনি। আগামীকাল আসার আগেই মৃত্যুর করাল গ্রাস তার ভাবনাকে অপূর্ণ রেখে তাকে নিয়ে গেছে অন্ধকার জগতে। যেখানে যে একবার যায়, আর কভু ফিরে আসে না। এ যে অনন্তকালের এক যাত্রা!
মৃত্যু কার কখন কীভাবে আসবে, তা আমরা কেউই বলতে পারি না। অথচ হরদম দুনিয়ার নেশায় মত্ত থাকতে এতটুকুও ভয় করি না। যদি নিশ্চিত জানা থাকত যে, কাল আমার মৃত্যু হবে, তাহলে এখন যে অবস্থায় আছি, সে অবস্থার ওপর কি আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারতাম? আমি কি এ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে হাজির হওয়ার মতো প্রস্তুতি নিয়ে আছি? নিশ্চিতপ্রায় সবারই উত্তর হবে, না, এ মুহূর্তে আমার এমন প্রস্তুতি নেই।

এমনই যদি হয় হালত, আবার মৃত্যু কখন আসবে সেটাও জানা নেই, তাহলে এই যে উদাসীনতা ও গাফলতির সহিত ছন্নছাড়া হয়ে চলছি, কথায়-কাজে আখিরাতের ন্যূনতম কোনো ফিকির নেই; এ মুহূর্তে হঠাৎ মারা গেলে কবরে গিয়ে কি আফসোস হবে না যে, আহ, যদি আরেকটা দিন সুযোগ পেতাম! হায়, যদি আরেকটা চান্স পেতাম তাহলে আর কখনো সময় নষ্ট করতাম না, সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতাম !! কিন্তু নাহ, তেমনটি হওয়ার কোনোই চান্স নেই।

যে আফসোস কবরে করতে হবে, সে আফসোস কি এখন করলে হয় না? অথচ এ দুই আফসোসের মাঝে কী বিশাল ফারাক! বুদ্ধিমান তো তারাই, যারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। প্রতিটি মুহূর্তেই সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকে। পথেঘাটে যখনতখন আকস্মিক মৃত্যুর ভয়ে কখনো সে নির্ভার হয়ে থাকে না। যে আফসোস কবরে করার সম্ভাবনা আছে, সেটাকে দুনিয়ার জীবনেই মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

দুনিয়াতে একজন মুমিনের অবস্থান এমন হওয়া উচিত যে, সাক্ষ্য ও লেখা ছাড়া তার অজ্ঞাত কোনো ঋণ থাকবে না। তার ওপর মানুষের কোনোরূপ হক অবশিষ্ট থাকবে না। তার কোনো গুনাহ তাওবা ছাড়া থাকবে না। তার অসিয়তনামা সর্বদা বালিশের পাশে প্রস্তুত থাকবে। তার চলাফেরা হবে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায়। তার প্রতিটি কথাবার্তা হবে জীবনের শেষ কথার ন্যায় সতর্কতা ও ন্যায়সঙ্গভাবে।

এমন জীবন কি আমার হয়েছে গঠন? আফসোস কি আজই করা উচিত, নাকি কাল কবরে যাওয়ার পর করা উচিত? হে বিবেকবান, এখনই ভাবার সময়। হয়তো একটু পর আর এক সেকেন্ডও সময় পাবে না। তার আগেই তোমার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে নাও। জীবনকে আখিরাতমুখী করে তোলো। মৃত্যুকে সর্বদা শিয়রের পাশে হাজির জ্ঞান করো। গুনাহ থাকলে তাওবাতুন নাসুহা করে সকল গুনাহকে ধুয়ে-মুছে ফেলার চেষ্টা করো।

আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ_সবই হোক একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ, আমাদের মৃত্যুর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে তবেই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার তাওফিক দান করুন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 19 =

error: Content is protected !!