Web Analytics Made Easy - StatCounter

বাদশাহ এর ক্ষমা

“বাদশাহ এর ক্ষমা” গল্পটি “শেখ সাদীর গল্প” হতে চয়নকৃত। চলুন গল্পটি পড়ে দেখি…।

বিখ্যাত সম্রাট হারুনুর রশিদ। আরবভূমিতে তাঁর নাম ছড়িয়ে আছে একজন সুশাসক ও প্রজাবৎসল সম্রাট হিসেবে। তিনি গরিবের উপকার করতেন। দুঃখী ও বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করতেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ছিলেন ভালাে মানুষদের পক্ষে। মন্দ মানুষদের বিপক্ষে।

একদিন সম্রাট হারুনুর রশিদ বসে আছেন সভাকক্ষে। মন্ত্রীদের সঙ্গে গভীর এক বিষয় নিয়ে শলাপরামর্শ করছেন। কী করে প্রজাদের উপকার করা যায় এই ছিল তার সারাক্ষণ কর্ম ও ধ্যান । এমন সময় একটি লােক প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করল। প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সােজা প্রবেশ করল সভাকক্ষে। সম্রাটের সামনে দাড়িয়ে উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপতে লাগল লােকটি। সম্রাট বললেন— কী হয়েছে তােমার?

– বাদশাহ নামদার, একজন আপনাকে ও আপনার মাকে নিয়ে যা-তা গালাগালি করছে রাস্তায়। এ আমি সহ্য করতে পারলাম না। তাই ছুটে এলাম। এই লােকের এখনই বিচার হওয়া উচিত।

সম্রাট মন দিয়ে সবটুকু শুনলেন। মন্ত্রীদের দিকে তাকিয়ে বললেন লােকটিকে কী করা উচিত বলে আপনারা মনে করেন? মন্ত্রীরা সকলেই ভয়ানক উত্তেজিত। এতবড় দুঃসাহস লােকটির! ওকে ধরে এনে এক্ষুনি ফাঁসিতে চড়াও। একজন সম্রাটকে বললেন লােকটিকে ধরে এনে সমুচিত সাজা দেয়া উচিত। ওকে শূলে চড়ানাে প্রয়ােজন। আরেকজন বললেন— ওকে হত্যা করে ওর মাংস কুকুর বেড়ালকে দিয়ে খাওয়ানাে দরকার। ওর জিভ কেটে, চুল ছেঁটে ওকে শহর থেকে বের করে দেয়া উচিত। কেউ-বা বলল– বেয়াদবটাকে মাটিতে পুঁতে পাথর ছুড়ে ছুড়ে হত্যা করতে হবে।

সম্রাটহারুনুর রশিদ সকলের বক্তব্যই শুনলেন। তারপর নীরবে একটু হাসলেন। মৃদু হাসি দিয়ে সকলের উদ্দেশে বললেন না হে, লােকটিকে ক্ষমা করে দেয়াই উচিত আমাদের। নইলে প্রমাণ হয় না আমরা ওই লােকটির চেয়ে বড়। লােকটি আমাকে গালাগালি দিয়েছে। ও নীচুমনের পরিচয় দিয়েছে। আমি যদি ওকে গালি দিতে চাই তবে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়? আমিও তাে তবে ওর মতাে হয়ে যাই। ওকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমাই মহত্ত্বের লক্ষণ।

গল্পটি ভাল লাগলে আপনার প্রিয়জন দের সাথে শেয়ার করুন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 2 =

error: Content is protected !!